পদ্ধতি
এই রিপোর্ট কীভাবে তৈরি হয়েছে
২০২৬ সালের এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এ যে ভোটারদের নথিতে যুক্তিগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) ধরা পড়েছিল, তাঁদের বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের শুনানিতে পাঠানো হয়েছিল। শুনানির পর প্রত্যেকে হয় যোগ্য বিবেচিত হয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, নয়তো অযোগ্য বিবেচিত হয়ে বাদ পড়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নির্বাচন কমিশন যে এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করে, সেখানে দুই ফলাফলের বিরুদ্ধেই আপিল করা যায়: বাদ পড়া ভোটাররা নিজেদের বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, আর শুনানির পর অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল করেছে নির্বাচন কমিশন বা তৃতীয় পক্ষ। Civic Research Group ভোটার তালিকা ডিজিটাইজ করে এবং ট্রাইব্যুনালের আপিল পোর্টালে প্রতিটি EPIC নম্বর (ভোটার কার্ডের নম্বর) যাচাই করে যা পেয়েছে, এই রিপোর্টে তা নির্বাচন কমিশনের সরকারি হিসাবের পাশাপাশি রাখা হয়েছে।
হিসাবের অঙ্ক
রিপোর্টের প্রতিটি সংখ্যা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে মেলে
শুনানির আওতায় থাকা মোট ভোটার (যুক্তিগত অসঙ্গতি)
শুনানির পর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভোটারশুনানির পর অযোগ্য বিবেচিত ভোটার
সরকারি হিসাব (আরটিআই আবেদনের উত্তরে নির্বাচন কমিশন): ৬০,০৬,৬৭৫ = ৩২,৭৭,৩৬০ + ২৭,২৮,৫০০। প্রকাশিত হিসাবে দুই অংশের যোগফল ৬০,০৫,৮৬০, যা মোটের চেয়ে ৮১৫ কম; ৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে অংশগুলির যোগফল সেই কেন্দ্রের মোটের সঙ্গে মেলে না। নির্বাচন কমিশন যেভাবে দিয়েছে, রিপোর্টে সংখ্যাগুলি ঠিক সেভাবেই দেখানো হয়েছে।
শুনানির পর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত
যে অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন বা তৃতীয় পক্ষ এসআইআর ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছে (অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল)যে অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের বিরুদ্ধে কোনো আপিল হয়নি
শুনানির পর অযোগ্য বিবেচিত হয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ
যে বাদ পড়া ভোটাররা বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল করেছেনযে বাদ পড়া ভোটাররা আপিল করেননি
যে বাদ পড়া ভোটারদের অবস্থা যাচাই হয়েছে (বৈধ EPIC)
ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেনআপিল করেননি
আমাদের তথ্যে: ২৭,০৬,০৫৭ = ২২,১৭,৬১৯ + ৪,৮৮,৪৩৮।
যে অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের অবস্থা যাচাই হয়েছে
অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল হয়েছেআপিল হয়নি
আমাদের তথ্যে: ৩২,৫৩,৪০১ = ১৬,০৮,১৭৫ + ১৬,৪৫,২২৬।
বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল (ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন)
ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীনট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়েছে
আমাদের তথ্যে: ২২,১৭,৬১৯ = ২১,৭৩,৯৯৭ + ৪৩,৬২২।
বাদ পড়ার বিরুদ্ধে যে আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে
মঞ্জুর (ভোটারের নাম ফিরেছে)খারিজ (বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল)ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি (ফলাফল অজানা)
অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল
ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীনট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি (ফলাফল অজানা)
অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে পোর্টাল দেখায় আপিল হয়েছে কি না, এবং তা বিচারাধীন না নিষ্পত্তি হয়েছে; কিন্তু নিষ্পত্তি হওয়া আপিলের ফলাফল কখনও দেখায় না।
প্রতিটি হিসাবের প্রথম লাইনের মোট সংখ্যা সরকারি। অংশগুলি গোনা হয়েছে আমাদের ডিজিটাইজ করা নথি থেকে। যেখানে আমাদের নথি পুরো সরকারি হিসাবকে ধরতে পারেনি, সেখানে পার্থক্যটি “আমাদের তথ্যে নেই” হিসেবে দেখানো হয়েছে।
কাজের ধাপ
- সরকারি হিসাব। নির্বাচন কমিশনের বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক হিসাবে ২৯৪টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে শুনানির আওতায় থাকা ভোটার, যোগ্য বিবেচিত ভোটার এবং অযোগ্য বিবেচিত ভোটারের সংখ্যা দেওয়া আছে। দক্ষিণ মালদহের সাংসদ শ্রী ঈশা খান চৌধুরীর ১৭/০৮/২০২৬ তারিখের আরটিআই আবেদনের উত্তরে, মেমো নং 8551-Home(Elec) মারফত, নির্বাচন কমিশন এই হিসাব দিয়েছে। রাজ্য, জেলা ও বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি শতাংশের ভিত্তি এই হিসাব।
- বাদ পড়া ভোটার। অযোগ্য বিবেচিত ভোটারদের নাম নির্বাচন কমিশন প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ও বুথের সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়, ছবি-ভিত্তিক পিডিএফ হিসেবে প্রকাশ করেছিল। এই তালিকাগুলির প্রাথমিক ডিজিটাইজেশন করেছে সবর ইনস্টিটিউট (Sabar Institute)। Civic Research Group সেই EPIC নম্বরগুলি যাচাই করেছে, ভুল EPIC সংশোধন করেছে এবং যে EPIC নম্বরগুলি অনুপস্থিত ছিল সেগুলি যোগ করেছে।
- অন্তর্ভুক্ত ভোটার। শুনানির পর যোগ্য বিবেচিত হয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের সাপ্লিমেন্টারি তালিকা পুরোটাই ডিজিটাইজ করেছে Civic Research Group: নাম, EPIC নম্বর, লিঙ্গ, বয়স ও বুথ।
- আপিলের অবস্থা। প্রতিটি EPIC ট্রাইব্যুনালের আপিল পোর্টালে যাচাই করা হয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে। বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষেত্রে পোর্টাল দেয় আপিলের অবস্থা, আপিল নম্বর, তারিখ এবং সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত; ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগে যাচাই করা আপিলের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তে দেখা যেত ট্রাইব্যুনাল আপিল মঞ্জুর করেছে না খারিজ করেছে, আর নির্বাচন কমিশন ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) বাধ্যতামূলক করার পর তা আর দেখা যায় না। অন্তর্ভুক্ত ভোটারদের ক্ষেত্রে পোর্টাল দেখায় তাঁদের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল আছে কি না, এবং তা বিচারাধীন না নিষ্পত্তি হয়েছে।
- অবৈধ EPIC। যে EPIC নম্বর পোর্টালে মেলেনি, সেগুলি আরেক দফা পোর্টালে যাচাই করা হয়েছে। তার পরেও যেগুলি অবৈধ থেকে গেছে, সেগুলি নির্বাচন কমিশনের তালিকার সঙ্গে হাতে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এই কাজ করেছেন বিনা পারিশ্রমিকের স্বেচ্ছাসেবকেরা; প্রকল্পটি কোনো উৎস, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে বাইরের কোনো অর্থসাহায্য পায়নি।
- বুথ ও স্থানীয় সংস্থা। ফর্ম ২০-র বুথ তালিকা ধরে বুথগুলিকে পুরসভা, ওয়ার্ড ও গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে মেলানো হয়েছে; স্থানীয় সংস্থার নাম লোকাল গভর্নমেন্ট ডিরেক্টরির (LGD) সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
- যোগফল। বুথ, স্থানীয় সংস্থা, বিধানসভা কেন্দ্র, জেলা ও রাজ্যের সংখ্যা পাওয়া গেছে ভোটারদের নথি যোগ করে। কিছুই অনুমান বা মডেল থেকে হিসাব করা নয়।
সংখ্যাগুলির অর্থ
- শুনানির আওতায়, অন্তর্ভুক্ত, বাদ
- আরটিআই আবেদনের উত্তরে পাওয়া নির্বাচন কমিশনের বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক সরকারি হিসাব: শুনানির আওতায় থাকা ভোটার (৬০,০৬,৬৭৫), শুনানির পর যোগ্য বিবেচিত হয়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত (৩২,৭৭,৩৬০), এবং অযোগ্য বিবেচিত হয়ে বাদ (২৭,২৮,৫০০)। এই রিপোর্টে “বাদ” বলতে সবসময় অযোগ্য বিবেচিত ভোটারের সরকারি সংখ্যাই বোঝানো হয়েছে। তথ্যসূত্র।
- আমাদের তথ্যে
- যে তালিকাগুলি আমরা ডিজিটাইজ করেছি এবং আপিল পোর্টালে যাচাই করেছি, তাতে থাকা ভোটার: ২৭,০৬,০৫৭ জন বাদ পড়া ভোটার এবং শুনানির পর অন্তর্ভুক্ত ৩২,৫৩,৪০১ জন ভোটার।
- তথ্যের ব্যাপ্তি (কভারেজ)
- একই এলাকার সরকারি হিসাবের তুলনায় আমাদের তথ্যে থাকা ভোটারের অংশ। কভারেজ ১০০%-এর কম হলে বুঝতে হবে কিছু নাম পড়া বা মেলানো যায়নি; ১০০%-এর বেশি হলে প্রকাশিত তালিকায় সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি নাম আছে। পার্থক্যটি “আমাদের তথ্যে নেই” হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন
- যে বাদ পড়া ভোটাররা বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন: ২২,১৭,৬১৯ (বাদ পড়া ভোটারের ৮১.৩%)। এই সংখ্যা সবসময় ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন আপিল আর ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া আপিলের যোগফলের সমান (২১,৭৩,৯৯৭ + ৪৩,৬২২)। আপিল কীভাবে করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী এঁদের তিন ভাগে গোনা হয়েছে:
- অনলাইনে জমা: আবেদন অনলাইনে করা হয়েছে। ১৭,৬৭,০৯৫ (বাদ পড়া ভোটারের ৬৪.৮%)।
- অফলাইনে জমা: আবেদন অফলাইনে, কাগজে করা হয়েছে। ১,৪৮,৮৪৬ (বাদ পড়া ভোটারের ৫.৫%)।
- আপিল করেছেন, মাধ্যম অজানা: ভোটার আপিল করেছেন, কিন্তু কোন মাধ্যমে তা জানা নেই। ৩,০১,৬৭৮ (বাদ পড়া ভোটারের ১১.১%)।
- আপিল করেননি
- যে বাদ পড়া ভোটারদের কোনো আপিলের নথি নেই: ৪,৮৮,৪৩৮ (বাদ পড়া ভোটারের ১৭.৯%)।
- বিচারাধীন ও নিষ্পত্তি
- বিচারাধীন: যে আপিলগুলিতে ট্রাইব্যুনাল এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি (বাদ পড়ার বিরুদ্ধে ২১,৭৩,৯৯৭, অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে ১৫,২৬,৯৩৩)। নিষ্পত্তি: যে আপিলগুলিতে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিলের মধ্যে ৩০,৮২৮টি মঞ্জুর, ৬,৪৪৪টি খারিজ, এবং ৬,৩৫০টির নিষ্পত্তি হয়েছে কিন্তু ফলাফল অজানা। অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে ৮১,২৪২টি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে, সবগুলিরই ফলাফল অজানা।
- অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল
- বিচারবিভাগীয় আধিকারিক যাঁদের যোগ্য বিবেচনা করেছেন এবং যাঁরা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন বা তৃতীয় পক্ষের করা আপিল: আমাদের তথ্যে ১৬,০৮,১৭৫টি। এই ভোটাররা তালিকায় থেকে গেছেন এবং ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগে Civic Research Group অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে কয়েকটি আপিল যাচাই করেছিল। তার প্রায় সবকটিই জমা দিয়েছিলেন “Addl CEO”, অর্থাৎ অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। ১৮ সেপ্টেম্বরের পর নির্বাচন কমিশন OTP বাধ্যতামূলক করায় পোর্টাল থেকে এই তথ্য সরে গেছে, এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
- শতাংশের ভিত্তি
- রাজ্য, জেলা ও বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে বাদ পড়া বা অন্তর্ভুক্ত ভোটারের অংশ হিসাব করা হয়েছে সরকারি হিসাবের ভিত্তিতে। বুথ ও স্থানীয় সংস্থার কোনো সরকারি হিসাব নেই, তাই সেখানে আমাদের তথ্যে থাকা ভোটারদের ভিত্তি ধরা হয়েছে।
- স্থানীয় সংস্থার সংখ্যা
- ফর্ম ২০-র বুথ তালিকা যে বুথগুলিকে কোনো পুরসভা, ওয়ার্ড বা গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে রেখেছে, সেই বুথগুলির যোগফলই ওই স্থানীয় সংস্থার সংখ্যা। পুরনিগম বা পুরসভার সংখ্যায় তার সব ওয়ার্ড ধরা আছে।
যে বাধাগুলির মুখে পড়তে হয়েছে, এবং সেই কারণে যা অজানা
- যন্ত্রে পড়া যায় না এমন তালিকা। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা এবং অন্তর্ভুক্ত ও বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা প্রকাশ করেছে ছবি বসানো পিডিএফ হিসেবে। সেগুলিকে লেখায় রূপান্তর করা কঠিন ছিল এবং কিছু ভুল এড়ানো যায়নি, ফলে অল্প কিছু EPIC নম্বর নিশ্চিত করা যায়নি।
- আপিলের কোনো সরকারি তথ্য নেই। নির্বাচন কমিশন আপিলের অবস্থা নিয়ে কোনো সামগ্রিক বা বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক রিপোর্ট প্রকাশ করে না, তাই ট্রাইব্যুনালের আপিল পোর্টালে একটি একটি করে EPIC ধরে অবস্থা যাচাই করতে হয়েছে।
- ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP)। Civic Research Group ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে ট্রাইব্যুনালের আপিল পোর্টালে প্রতিটি EPIC আলাদা করে যাচাই করেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগে যাচাই করা আপিলের ক্ষেত্রে পোর্টালে ট্রাইব্যুনালের ফলাফল (ট্রাইব্যুনালে মঞ্জুর বা ট্রাইব্যুনালে খারিজ) দেখা যেত। কোনো EPIC-এর আপিলের অবস্থা দেখতে নির্বাচন কমিশন ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) বাধ্যতামূলক করার পর সেই তথ্য আমরা আর দেখতে পাই না। তাই রিপোর্টে এমন আপিলগুলিকে “ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি (ফলাফল অজানা)” হিসেবে দেখানো হয়েছে: ট্রাইব্যুনাল নিষ্পত্তি করেছে, কিন্তু ফলাফল জানা নেই। OTP-র ফলে স্বাধীনভাবে বড় আকারে যাচাই করা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে, এবং এই পরিবর্তনের আগে সংগ্রহ করা তথ্য নতুন করে হালনাগাদ করাও কঠিন।
- অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল কে করেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগে Civic Research Group অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে কয়েকটি আপিল যাচাই করেছিল। তার প্রায় সবকটিই জমা দিয়েছিলেন “Addl CEO”, অর্থাৎ অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। ১৮ সেপ্টেম্বরের পর নির্বাচন কমিশন OTP বাধ্যতামূলক করায় পোর্টাল থেকে এই তথ্য সরে গেছে, এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
- ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি (ফলাফল অজানা)। বাদ পড়ার বিরুদ্ধে ৬,৩৫০টি আপিলের ক্ষেত্রে আমরা পোর্টালের যে উত্তর পেয়েছি তাতে দেখা যায় ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু আপিল মঞ্জুর করেছে না খারিজ করেছে তা দেখা যায় না: এগুলি যাচাই হয়েছে OTP বাধ্যতামূলক হওয়ার পরে, অথবা পোর্টালে ফলাফল কখনও দেখানোই হয়নি। এগুলিকে কখনও মঞ্জুর, খারিজ বা “অন্যান্য” হিসেবে গোনা হয় না।
- আপিল করেছেন, মাধ্যম অজানা। ৩,০১,৬৭৮ জন বাদ পড়া ভোটারের ক্ষেত্রে উত্তরে দেখা যায় তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন, কিন্তু আবেদন অনলাইনে না অফলাইনে করা হয়েছে তা দেখা যায় না।
বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল: আপিলের অবস্থা
বাদ পড়া ভোটার ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন কি না
| যেভাবে দেখানো হয় | অর্থ | নথি |
|---|---|---|
| অনলাইনঅনলাইনে জমা | ভোটার নিজে অনলাইনে আপিল জমা দিয়েছেন (পোর্টালে “Submitted by citizen”)। | ১৭,৬৭,০৯৫ |
| অফলাইনঅফলাইনে জমা | আপিল অফলাইনে, কাগজে জমা পড়েছে। | ১,৪৮,৮৪৬ |
| মাধ্যম অজানাআপিল করেছেন, মাধ্যম অজানা | ভোটার ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন, কিন্তু পোর্টালের উত্তরে বলা নেই অনলাইনে না অফলাইনে। | ৩,০১,৬৭৮ |
| আপিল করেননিআপিল করেননি | কোনো আপিল হয়নি। | ৪,৮৮,৪৩৮ |
বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল: ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত
আপিল নিয়ে ট্রাইব্যুনাল কী করেছে
| যেভাবে দেখানো হয় | অর্থ | নথি |
|---|---|---|
| বিচারাধীনট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন | আপিল জমা পড়েছে; ট্রাইব্যুনাল এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। | ২১,৭৩,৯৯৭ |
| মঞ্জুরট্রাইব্যুনালে মঞ্জুর | ট্রাইব্যুনাল বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ভোটারের নাম ফিরিয়ে দিয়েছে। | ৩০,৮২৮ |
| খারিজট্রাইব্যুনালে খারিজ | ট্রাইব্যুনাল বিচারবিভাগীয় আধিকারিকের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে; নাম বাদই থাকছে। | ৬,৪৪৪ |
| ফলাফল অজানাট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি (ফলাফল অজানা) | ট্রাইব্যুনাল আপিলের নিষ্পত্তি করেছে, কিন্তু পোর্টালের উত্তরে দেখা যায় না আপিল মঞ্জুর হয়েছে না খারিজ। | ৬,৩৫০ |
| প্রযোজ্য নয়প্রযোজ্য নয় (আপিল হয়নি) | আপিল হয়নি, তাই সিদ্ধান্তেরও প্রশ্ন নেই। | ৭০,৮৮৯ |
| নেইকোনো সিদ্ধান্ত নথিতে নেই | মূল তথ্যে সিদ্ধান্তের ঘরটি ফাঁকা ছিল। | ৪,১৭,৫৪৯ |
অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল: পোর্টালে অবস্থা
অন্তর্ভুক্ত ভোটারের ক্ষেত্রে পোর্টালের উত্তর কীভাবে পড়া হয়েছে
| যেভাবে দেখানো হয় | অর্থ | ভোটার |
|---|---|---|
| বিচারাধীনআপিল হয়েছে, বিচারাধীন | “Appeal/application ID present in Stage 1” (APPEAL_PRESENT_STAGE1): ভোটারের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে একটি আপিল বিচারাধীন। | ১৫,২৬,৯৩৩ |
| নিষ্পত্তি (ফলাফল অজানা)আপিল হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি (ফলাফল অজানা) | “Appeal already submitted and disposed” (APPEAL_DISPOSED): ট্রাইব্যুনাল আপিলের নিষ্পত্তি করেছে; পোর্টালে বলা নেই আপিল মঞ্জুর হয়েছে না খারিজ। | ৮১,২৪২ |
| আপিল হয়নিআপিল হয়নি | “No record found” (NO_APPEAL): এই ভোটারের বিরুদ্ধে কোনো আপিল নেই। | ১৬,৪৫,২২৬ |
তথ্যের ব্যাপ্তি ও মান
- বাদ পড়া ভোটার। সরকারিভাবে অযোগ্য বিবেচিত ২৭,২৮,৫০০ জন ভোটারের মধ্যে ২৭,০৬,০৫৭ জন আমাদের তথ্যে আছেন (৯৯.১৮%)।
- অন্তর্ভুক্ত ভোটার। সরকারিভাবে যোগ্য বিবেচিত ৩২,৭৭,৩৬০ জন ভোটারের মধ্যে ৩২,৫৩,৪০১ জন আমাদের তথ্যে আছেন (৯৯.২৭%)।
- যে সরকারি হিসাব মেলে না। ৪৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে যোগ্য ও অযোগ্য বিবেচিত ভোটারের যোগফল শুনানির আওতায় থাকা মোট ভোটারের সঙ্গে মেলে না; রাজ্যজুড়ে পার্থক্য ৮১৫। সংখ্যাগুলি যেমন দেওয়া হয়েছে তেমনই দেখানো হয়েছে। বিধানসভা কেন্দ্রের সারণিতে সরকারি হিসাব ও কভারেজের কলামগুলি দেখুন।
- EPIC নম্বর। বাদ পড়া ভোটারদের ২৭,০৬,০৫৭টি নথিতে বৈধ EPIC নম্বর আছে।
- ১০০%-এর বেশি কভারেজ। ২টি বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তত এক দিকে আমাদের নথিতে নির্বাচন কমিশনের সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি নাম আছে; তার মধ্যে ০টি সেই কেন্দ্রগুলির মধ্যে পড়ে যেখানে সরকারি হিসাব মেলে না। আমাদের নথির উৎস প্রকাশিত তালিকা, তাই সেখানে যোগ্য ও অযোগ্যের সরকারি ভাগ অসম্পূর্ণ বলে মনে হয়। কভারেজ যেমন আছে তেমনই দেখানো হয়েছে, কখনও ১০০%-এ আটকে রাখা হয়নি।
- দুই তালিকাতেই থাকা EPIC। ২৪৪টি EPIC নম্বর একই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত ও বাদ পড়া, দুই তালিকাতেই আছে। প্রতিটি তালিকা যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনই গোনা হয়েছে, তাই এই ভোটারদের দুই দিকেই গোনা হয়েছে।
- বুথ নম্বর নেই এমন নথি। ১টি বিধানসভা কেন্দ্রের বাদ পড়া ভোটারদের ৩৩টি নথিতে বুথ নম্বর নেই, তাই সেগুলি নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের হিসাবে ধরা হয়েছে, কিন্তু কোনো বুথ বা স্থানীয় সংস্থার হিসাবে নয়: এসি ১৬৬ (৩৩)।
- স্থানীয় সংস্থার নাম। মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ২৪৯টিতে ফর্ম ২০-র বুথ তালিকায় প্রতিটি বুথের পুরসভা, ওয়ার্ড বা গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম আছে। বাকি ৪৫টি কেন্দ্রের বুথের তথ্য আছে কিন্তু স্থানীয় সংস্থার নাম নেই, তাই সেখানকার ভোটারদের কোনো স্থানীয় সংস্থার মধ্যে দেখা যায় না।
- লিঙ্গ। লিঙ্গ গোনা হয়েছে তালিকার উল্লেখ থেকে। বাদ পড়া ভোটারদের ২,৩৩৫টি নথিতে লিঙ্গের উল্লেখ নেই; সেগুলি “নথিতে নেই” হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই উল্লেখ থেকে কারও লিঙ্গ, যোগ্যতা বা আইনি অবস্থান সম্পর্কে কিছু বোঝায় না।
স্থানীয় সংস্থার নাম নেই এমন বিধানসভা কেন্দ্র (৪৫)
তারিখ
- বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আপিল জমা পড়েছে
- ২৮ মার্চ ২০২৬ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের তারিখ
- ৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- আলাদা আলাদা EPIC যাচাই
- ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ অক্টোবর ২০২৬, ট্রাইব্যুনালের আপিল পোর্টালে Civic Research Group যাচাই করেছে। কোনো EPIC যাচাই হয়ে যাওয়ার পরে যে আপিল জমা পড়েছে বা যার সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা গোনা হয়নি।
- ট্রাইব্যুনালের ফলাফল দেখা গেছে
- ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর আগে যাচাই করা আপিলের ক্ষেত্রে (ট্রাইব্যুনালে মঞ্জুর বা ট্রাইব্যুনালে খারিজ)। কোনো একটি EPIC-এর আপিলের অবস্থা দেখতে নির্বাচন কমিশন ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) বাধ্যতামূলক করার পর ফলাফল আর আমাদের হাতে আসে না, এবং এমন আপিলগুলি “ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি (ফলাফল অজানা)” হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- অন্তর্ভুক্তির অবস্থা যাচাই
- ১৬ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬
- নির্বাচন কমিশনের হলফনামা
- ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ LiveLaw-এ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সংখ্যা।
সীমাবদ্ধতা ও সংশোধন
- সূচক, সিদ্ধান্ত নয়। এই সংখ্যাগুলি কাজের অবস্থা বোঝার সূচক, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্যগত সিদ্ধান্ত নয়। বিচারাধীন, আপিল করেননি, মেলেনি বা অজানা ফলাফলের পিছনে থাকতে পারে অসম্পূর্ণ তথ্য, সময়ের ব্যবধান, তথ্য তোলার পার্থক্য, পোর্টালের উত্তর, বা এখনও পর্যালোচনাধীন নথি।
- কোনো সংখ্যার ওপর ভরসা করার আগে মিলিয়ে নিন। আইনি, সংবাদমাধ্যম, নীতি বা প্রচারের কাজে কোনো সংখ্যা ব্যবহারের আগে তা সরকারি নথি ও মামলার নথির সঙ্গে মিলিয়ে নিন। প্রত্যেক ভোটার নিজের অবস্থা নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে দেখে নিন।
- সংশোধন। কোনো সংখ্যা তৈরি হওয়ার পরেও মূল তথ্য বদলাতে পারে। ভুল মূল তথ্যেই সংশোধন করা হয়, সাইটটি নতুন করে তৈরি করা হয় এবং সংশোধনের তারিখ দেওয়া হয়। নির্ভুলতা ও সংশোধন নীতি।
তথ্য ব্যবহার করুন, এবং কীভাবে সূত্র উল্লেখ করবেন
মূল তথ্য, প্রকাশ্য রিপোজিটরিgithub.com/civicresearch/wbsir
যে কেউ এই তথ্য স্বাধীনভাবে ব্যবহার, যাচাই ও পরীক্ষা করতে পারেন। যথাযথ সূত্র উল্লেখ করে এবং https://appeal.civicresearch.in/ লিংক দিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনেও ব্যবহার করতে পারেন।
রিপোর্টের প্রস্তাবিত সাইটেশন (সূত্র-উল্লেখ) ইংরেজিতেই রাখা হয়েছে; বাংলা লেখাতেও এটি এভাবেই উদ্ধৃত করুন।
Civic Research Group, West Bengal SIR 2026 Adjudication & Tribunal Appeals Report, https://appeal.civicresearch.in/এই সংখ্যাগুলি ব্যবহার করলে Civic Research Group-এর নাম উল্লেখ করুন এবং appeal.civicresearch.in-এর লিঙ্ক দিন। পুনর্ব্যবহারের শর্ত ও যোগাযোগ।